হেপাটাইটিস সি এর ধাপসমূহ:

 

ধাপ ১: প্রারম্ভিক সংক্রমণ (প্রথম ছয় মাস)

হেপাটাইটিস সি যখন রক্তে প্রবেশ করে তা একপর্যায়ে যকৃতে যায়। ভাইরাসটি লিভারের কোষে সংক্রমণ ঘটায় এবং বড় হতে শুরু করে। সাধারণত দেখা যায়, প্রায় ২০ % মানুষ নিজে নিজেই কয়েক মাসের মধ্যে ভাইরাস নির্মূল করে ফেলে।

ধাপ ২: দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ

প্রায় ৮০% মানুষ তাদের দেহে সংক্রমিত ভাইরাস নিজে নিজে দূর করতে পারে না এবং দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণের শিকার হয়।

ধাপ ৩: প্রদাহ ও ফাইব্রোসিস

ভাইরাস যকৃতের কোষ নষ্ট করে বহুগুনে বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। সময়ের সাথে সাথে এটি লিভারের কোষগুলোতে ক্ষত সৃষ্টি করে যা ফাইব্রোসিস নামে পরিচিত। এ ভাইরাস খুব ধীরে ধীরে সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে দেহে কাজ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

ধাপ ৪: সিরোসিস

২০ থেকে ৩০ বছর ধরে সংক্রমণের ফলে প্রতি পাঁচজনের একজনের ক্ষেত্রে লিভারে গুরুতর ক্ষত এবং লিভার শক্ত হয়ে যেতে পারে যা সাধারণভাবে সিরোসিস নামে পরিচিত। এরপরও দেখা যায় কিছু মানুষের লিভার ঠিকঠাক ও সুন্দরভাবে কাজ করছে এবং রোগের কোনো লক্ষনও প্রকাশ পাচ্ছে না। তবে আক্রান্ত অন্যদের ক্ষেত্রে সিরোসিস লিভারের স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্থ করতে পারে। সংক্রমণের এ পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষত সৃষ্টির ফলে লিভার সঙ্কুচিত হয়ে ছোট হয়ে যায় এবং এর স্বাভাবিক কাজ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ সময় নতুন করে লিভার প্রতিস্থাপনেরও প্রয়োজন হতে পারে। সিরোসিস আক্রান্ত রোগীদের ৫ থেকে ১০ শতাংশ লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।